সূচী
০১. সত্য মিথ্যার গল্প----------------------------
০২. ছেলের প্রশংসা-----------------------------
০৩. আল্লাহর সাহায্য----------------------------
০৪. Survival (সারভাইভাল)-------------------
০৫.
০৬.
০৭.
০৮.
০৯.
১০.
সত্য মিথ্যার গল্প
একটা গল্প বলি। এটি বাস্তবের সাথে মিল রেখে অবাস্তব একটি গল্প।
একবার সত্য এবং মিথ্যা একজন আরেকজনের সাথে মানুষ আকারে দেখা করল। এরপরে
তারা কিছু বিষয় মীমাংসার জন্য কথা বলতে লাগলো। হাঁটতে হাঁটতে তারা চলে গেল একটা পানির
কুয়োর পাশে।
মিথ্যা বলল দেখো কি পরিষ্কার পানি। চলো দুজনে গোসল করি।
কিন্তু সত্য মিথ্যার কথা বিশ্বাস করল না। সত্য নিজে যখন যাচাই করে দেখলো
কুয়োর পানি সত্যি পরিষ্কার, তখন মিথ্যার প্রস্তাবে সত্য রাজি হলো। দুজনে নিজের নিজের
পোশাক খুলে কুয়োর মধ্যে গোসল করতে নামল। কিছুক্ষণ পরে মিথ্যা কুয়ো থেকে উঠে এসে সত্যের
পোশাক পরে পালিয়ে গেল। সত্য কিছুক্ষণ মিথ্যার ফিরে আসার অপেক্ষা করল। কিন্তু মিথ্যা
আর ফিরে এলো না। বাধ্য হয়ে সত্য কুয়ো থেকে নগ্ন অবস্থায় উঠে এলো।
সত্য চারদিকে তাকিয়ে মিথ্যাকে কোথাও খুঁজে পেল না। সত্য তার নিজের পোশাকও
খুঁজে পেল না। নগ্ন সত্য তার নিজের পোষাক না পেয়ে রাগে অন্ধ হয়ে মিথ্যাকে খুঁজতে বের
হলো। কিন্তু পোষাক ছাড়া নগ্ন সত্যকে দেখে সবাই ছিঃ ছিঃ করতে লাগলো। অনেকে তাকে তেরে
মারতে এলো। অনেকে সত্যের টুটি চেপে ধরলো। সত্য
অনেক চেষ্টার সত্ত্বেও মানুষদের বোঝাতে পারলো না যে, সে আসলে সত্য। রাগে, দুঃখে, অপমানে
সত্য আবার সেই কুয়োয় ফিরে গেল এবং সেখানেই সে হারিয়ে গেল। এরপর থেকে সত্যকে আর কেউ
দেখেনি। এখন যাকে সত্য হিসেবে আমরা দেখছি সে আসলে সত্যের পোশাক পরা মিথ্যা।
সত্যের পোশাকে মিথ্যা ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদের সম্মুখে এটাই বাস্তব। সত্যের
অন্তরালে আত্মগোপন করে আছে মিথ্যা। হাজারও সত্য বলুন, বিশ্বাস করানো কঠিন। কিন্তু মিথ্যার
ফুলঝুরি দিয়ে তৈরি কথাগুলো সকলের কাছেই সত্য বলে প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। আসলে
সত্য নগ্ন, হজম করা কঠিন। আমাদের সমাজে প্রকৃত সত্য মিথ্যার কাছে পরাজিত।
আমাদের সমাজটা আসলে এমনই। সত্য সবাই সবসময় শিকার বা গ্রহণ করতে পারে না।
কিন্তু তাই বলে সত্য কখনো গোপন থাকে না। ধৈর্য ধারণ করে দৃঢ়তার সাথে সত্য গ্রহণ করলে
অবশেষে বিজয় হবেই। সত্যকে গল্পের কুয়ো থেকে তুলে আনতে হবে এবং মিথ্যাকে নগ্ন করে সত্যকে
তার পোশাক ফিরিয়ে দিতে হবে। আমাদের এই নষ্ট সমাজে তা কি সম্ভব?
ছেলের প্রশংসা
একদিন
গ্রামের চার মহিলা একটি কুয়া থেকে পানি ভরছিল। পানি ভরতে ভরতে গল্পের ছলে তারা
তাদের নিজেদের ছেলের প্রশংসা করছিল।
প্রথম
মহিলা বলল, আমার ছেলে শহর থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করে এসেছে। সে অনেক জ্ঞান অর্জন
করেছে। সব বিষয়ে ওর দক্ষতা আছ।
দ্বিতীয়
মহিলা বলল, আমার ছেলে শহরের সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা করে এসেছে। ধর্মীয়
বিষয় প্রচন্ড জ্ঞান আছে। হাদিস কোরআন বিষয় সে অনেক কিছু জানে।
তৃতীয়
মহিলা বলল, আমার ছেলেও অনেক শিক্ষিত হয়ে ফিরেছে। সে এত কিছু জানে যে, গ্রামের
বাচ্চারা তার কাছে পড়াশোনা করতে আসে।
চতুর্থ
মহিলা চুপ ছিল।
সবাই
তাকে জিজ্ঞেস করল,
তুমি
বলো, তোমার ছেলে কতটুকু পড়াশোনা করেছে?
চতুর্থ
মহিলা বলল, আমার ছেলে কোন পড়াশোনা করেনি। কারণ আমাদের সামর্থ্য ছিল না ছেলেকে
পড়াশোনা করানোর।
কিন্তু
আমার ছেলে ক্ষেতের কাজে খুব ভালো।
এভাবে
গল্প করতে করতে চার মহিলা বাড়ির দিকে রওনা হলো। পথে প্রথম মহিলার ছেলের সঙ্গে
দেখা হলো।
সেই
ছেলে সবাইকে দেখে, সালাম দিয়ে সামনের দিকে চলে গেল।
এভাবে
দ্বিতীয় এবং তৃতীয় মহিলার ছেলের সঙ্গেও দেখা হল এবং তারা দুজনেই সবাইকে সালাম
দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেল।
একটু
পরেই চতুর্থ মহিলার ছেলে সেই পথেই এলো। ছেলে যখন মাকে রাস্তায় দেখল, সে দৌড়ে এসে
মায়ের কাছ থেকে পানি ভর্তি পাত্রটি নিয়ে নিল, আর বলল, তুমি কেন পানি আনতে গেলে?
আমাকে বললেই তো আমি তোমার সাথে গিয়ে পানি নিয়ে আসতাম। এই বলে সে পানির পাত্রটি
মাথায় করে মাকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হল।
প্রথম
তিনজন মহিলাই চতুর্থ মহিলা আর তার ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকলো।
আসলে জীবনে কেবল পুথিগত শিক্ষাই সবকিছু নয়। পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি
নিজের সন্তানকে সব সময় আজব কায়দা এবং আচার ব্যবহারও শেখাতে হবে। গুরুজনদের সম্মান
করাও শিখাতে হবে।
আল্লাহর সাহায্য
একটি রেডিও স্টেশনে লাইভ প্রোগ্রাম চলতেছিল। সেই প্রোগ্রামে যে কেউ
ফোন করে কথা বলতে পারতো। এমন সময় একজন বৃদ্ধ মহিলার ফোন এলো রেডিও স্টেশনে। বৃদ্ধ
মহিলা সাহায্যের জন্য রেডিও স্টেশনে কল করলো।
সে রেডিও জকি কে বললো, আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করো আর বল,
আমাকে কিছু সাহায্য করতে। আমি দুইদিন কিছু খাইনি। আল্লাহ যেন আমার জন্য খাবার
পাঠায়।
এই প্রোগ্রাম এমন একজন নাস্তিক ব্যক্তিও শুনতে ছিল যে আল্লাহকে
বিশ্বাস করে না। সেই রেডিওতে বৃদ্ধ মহিলার কথা শুনছিল। নাস্তিক ছিল বেশ ধনী মানুষ।
তাই সে ভাবল এই বৃদ্ধ মহিলাকে নিয়ে একটু মজা করলে কেমন হয়?
এই ভেবে সে তার কর্মচারীকে ডেকে বলল, এই বৃদ্ধ মহিলার ঘরে অনেক
খাবার পৌঁছে দাও। আর খাবার তাকে দেওয়ার পরে বলবে, খাবার আল্লাহ নয়, শয়তান
পাঠিয়েছে।
কিছুক্ষণ পরে কর্মচারী অনেক খাবার নিয়ে সেই বৃদ্ধ মহিলার ঘরে
পৌঁছে গেল। মহিলা যখন দরজা খুলল,তখন এত খাবার দেখে সে খুশিতে পাগল হয়ে গেল এবং
তাড়াতাড়ি খাবারগুলো ঘরের ভেতরে নিয়ে যেতে লাগলো।
বৃদ্ধ মহিলা যখন খাবার ঘরে নিচ্ছিল তখন কর্মচারী তাকে বলল, আপনি
জানতে চান না, এই খাবার কে পাঠিয়েছে?
বৃদ্ধ মহিলা বলল, না আমার জানার কোন দরকার নেই। কারণ হুকুম যখন
আল্লার তরফ থেকে আসে, তখন স্বয়ং শয়তান ও সেই হুকুম মানতে বাধ্য থাকে।
ঈশপের গল্পের মতো এই গল্পের শিক্ষণীয় বিষয় হলো, আমাদের বিশ্বাস এবং
আমাদের ভরসা শুধুমাত্র আল্লাহর উপরেই রাখতে হবে। তাহলে জীবনে মিলবে, অনেক কিছুই
মিলবে।
Survival (সারভাইভাল)
একজন মানুষ একটা মোরগ পালতো। একদিন সে চিন্তা করল মোড়েরটিকে সে কেটেকুটে
রান্না করে খাবে। কিন্তু যেহেতু অনেক দিন সে এই মোড়গটাকে পালছে, তাই কোন একটা বাহানা
দেখাইয়া তারপরে মোরগটারে মারতে হবে।
এই কারণে সে একদিন মোরগটার সামনে এসে মোড়গকে বললো, এই মোরগ তুই প্রতিদিন
সকালবেলা কো-ক-কো-ড়ো-কো বলে যে বাগ দাও তাতে আমার ঘুমের সমস্যা হয়। কালকে থেকে যদি
তুই সকালবেলা বাগ দাও তাহলে তোকে কিন্তু কেটেকুটে খেয়ে ফেলবো।
মোরগ বললো, ঠিক আছে মালিক।
পরের দিন মোরগ আর সকালে বাগ দিল না, তবে মোরগ তার দুই পাখা জোরে জোরে ঝাপটাতে
লাগলো। এইটা দেখে মালিক রাগের সাথে মোরগকে আবার ডেকে বললো, কালকে থেকে পাখা ঝাপটাবিনা।
আমার সমস্যা হয়। এই রকম আবার করতে দেখলে তোকে কিন্তু মেরে ফেলবো।
মোরগ বললো ঠিক আছে মালিক।
এরপরের দিন সকালে মোরগ বাগ দিল না। পাখাও ঝাপটালো না তবে, মোরগ তার গলা
উঁচু করে বাগ দেওয়ার মত ভঙ্গি করলো। এতেও মালিক অনেক রেগে গেল এবং মোরগকে আবার ডেকে
গলা উচু করতেও নিষেধ করলো।
পরের দিন মোড়ক একদম চুপচাপ থাকলো এবং কি কোন কিছুই করলো না। এই অবস্থা
দেখে মালিক চিন্তা করল এখন কোন অজুহাত দিলে মোরগ আর সেটা কোনভাবেই করতে পারবে না। তাই
সে মোরগকে ডেকে বললো, এই মোরগ কালকে থেকে তোকে প্রতিদিন একটা করে ডিম পারতে হবে। তা
না হলে তোকে কিন্তু আমি মেরে ফেলবো।
এই কথা শোনার পরে মোরগ মনে মনে চিন্তা করলো, আসলে আমার মালিকের তো চিন্তাভাবনা
ছিল আমাকে মেরেই ফেলবে। তাই এতদিন সে বিভিন্ন বাহানা খুঁজে বেরিয়েছে। মোরগ তখন জোরে
জোরে কান্না করতে লাগলো।
মোরগকে কাঁদতে দেখে মালিক মোরগের কাছে এসে বললো, কি মরার ভয়ে কান্নাকাটি
করতে আছো?
মোরগ তখন বললো, না! আসলে বাগ দেওয়া আমার জন্মগত স্বভাব ছিল, আমার মোরগ
হওয়ার পরিচয় ছিল। মরাই যখন লাগবে তখন আমি আমার মোরগ হওয়ার পরিচয় বাগ দিয়াই মরতাম। সেটাই
আমার জন্য গৌরবের ছিল। ডিম পারতে না পারার কারণে মরার চেয়ে আমার স্বাধীনতা, আমার বাগ
দেওয়ার স্বভাব ঠিক রেখে মরাটাই আমার জন্য বেটার ছিল। কিন্তু তোমার কথা মানতে গিয়ে
আমি আমার স্বাধীনতা, আমার জন্মগত অধিকার সবকিছু আমি ত্যাগ করে ফেলেছিলাম।
কিন্তু যার উদ্দেশ্যই হচ্ছে মেরে ফেলার, তার সবকিছু মেনে না নিয়ে যদি তার
বিরোদ্ধে প্রতিবাদ করতাম, যুদ্ধ করতাম তাহলে হয়তো আমি বেঁচে যেতাম। আসল কথা হল সব
সময় সমঝোতা করা বুদ্ধিমানের কাজ না। মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করারও দরকার আছে। আর যখন আপনি
আপনার প্রতিবাদের কন্ঠ চুপ করে দেন, তখন আপনি আপনার অস্তিত্বকে বিলীন করে দেন। আর যে
নিজের পরিচয় বাদ দিয়ে, অধিকার বাদ দিয়ে মাথানত করে দেয়, সে নিঃশ্বাস ন্যায় ঠিকই
তবে সে আসলে বেঁচে থাকে না।
.jpg)


0 মন্তব্যসমূহ